জুলহাজ খাঁন মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মহাদেবপুরে কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ শিরোনামে সোমবার ২০ এপ্রিল ও মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল জাতীয়, আঞ্চলিক পত্রিকা ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে নোরে-চোরে বসে প্রশাসন। এব্যাপারে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের সাগরইল গ্রামে গিয়ে গ্রামের ভিতরের রাস্তা এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) করণের কাজ জরুরী ভিত্তিতে তদারকি করেন। এ সময় তিনি বলেন ইতোমধ্যেই প্রায় ২৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বেশ কয়েকজন শ্রমিক ইট বসানোর কাজ করছেন। শ্রমিকরা জানালেন,ব্যবহৃত ইটের সবগুলো ভালো মানের। তারা আরোও জানালেন, সূদুর চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ইটগুলো আনা হয়েছে।কারণ হিসেবে বলেন সেখানে ইটের দাম কম। রাস্তার বেডে পরিমাণ মত বালু দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান ট্রাক শ্রমিকরা কিছু খারাপ ইট এনেছিল। সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জানার সাথে সাথে প্রায় ১৫ হাজার ইট ব্যবহার না করে প্রকল্প এলাকাতেই জমা করে রাখা হয়েছে। এগুলো ফেরৎ পাঠানো হচ্ছে। প্রকল্পে ভুলবশত অল্প সংখ্যক খারাপ ইট ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তিনি স্বীকার করে তা উঠিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলেও জানান। প্রকল্প এলাকায় নিয়মানুযায়ী নির্মাণ কাজের বিবরণ সম্বলিত কোন সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়নি। কারণ সবেমাত্র কাজ শুরু হয়েছে। ঠিকাদারকে বলে দেওয়া হয়েছে অবশ্যই তা টাঙ্গানো হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরোও বলেন, “সাগরইল গ্রামে এক কিলোমিটার একশ’ মিটার ও উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের ভালাইন গ্রামে চারশ’ মিটার সড়ক এইচবিবি করণের জন্য মোট এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এখানে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।
সোহেল রানা নামে একজন ঠিকাদার প্রকল্প দুটির কাজ করছেন। মূল ঠিকাদার জেলার পোরশা উপজেলার একজন।এই মুহূর্তে তার নাম বলতে পারছি না। তবে অফিস নতি দেখে বলা যাবে।
মোবাইল ফোনে সোহেল রানা জানান, তিনি পোরশা উপজেলার নিতপুর এলাকার ফারজানা ট্রেডার্সের কাছ থেকে প্রকল্পটি নিয়েছেন। খারাপ ইট তিনি ব্যবহার করবেন না। যে অল্প সংখ্যক ব্যহহার হয়েছে সেগুলো পরিবহণ শ্রমিকরা ভূল করে ভাল ইটের সাথে নিয়ে এসেছে।
আইনে একজন ঠিকাদারের প্রকল্প তার সহযোগী ঠিকাদার তদারকি করতে পারবেন। এতে কোন বাধা নেই। তবে অনিয়ম হচ্ছে কিনা সেটি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।