• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯
শিরোনামঃ
অ্যাব এর আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনের উপস্থিতিতে মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সান্তাহারে আশা আইসক্রিম কারখানায় অভিযানে ১০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ ; ফ্যাক্টারী সিলগালা নীলফামারী আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা ধামইরহাটে সংঘাত নয়-শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দুমকিতে মাদকের প্রতিবাদ করায় সাবেক ছাত্রনেতার ওপর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজগংয়ের হামলা পোরশায় কোয়ারেন্টাইনে মারা যাওয়া ছাগলের বদলে নতুন ছাগী পেল ৩২ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার মহাদেবপুর ইউএনওকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ আদালতের বৈধ আদেশ প্রতিপালন না করায় কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না? নাগেশ্বরীর কলেজ মোড়ে ১ কেজি গাঁজাসহ ইজিবাইকচালক গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামে ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা মুকিত পার্থ এবার মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে আটক পোরশায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যু

মোবাইল অ্যাপে ঋণের ফাঁদ: এক সপ্তাহেই অস্বাভাবিক সুদ, পরিশোধে দেরি হলেই হুমকি-হয়রানি

Reporter Name / ৭৭ Time View
শনিবার, ২ মে, ২০২৬

তন্ময় দেবনাথ বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান রাজশাহীঃ           ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজ শর্তে দ্রুত ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার জালে ফেলছে একাধিক অসাধু চক্র। ‘ফিন ক্যাশ’, ‘দ্রুত ক্যাশ’, ‘ক্যাশ ক্রেডিট’, ‘স্মার্টলোন ওয়ার্ল্ড’ ও ‘গুইকলোন’সহ বিভিন্ন নামের মোবাইল অ্যাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবহারকারীদের টানছে। “তাৎক্ষণিক অনলাইন ক্যাশ”, “দ্রুত ও নিরাপদ ঋণ”-এমন চটকদার স্লোগানে প্রচার চালানো হলেও বাস্তবে এসব অ্যাপের আড়ালে চলছে সুপরিকল্পিত প্রতারণা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব অ্যাপে নিবন্ধনের সময় গ্রাহকের মোবাইল নম্বর, ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর ১ হাজার ৫০০ টাকার ঋণের আবেদন করলে হাতে দেওয়া হয় মাত্র ৯৭৫ টাকা, বাকি অর্থ বিভিন্ন ফি হিসেবে কেটে নেওয়া হয়। অথচ মাত্র সাত দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয় ১ হাজার ৭২৫ টাকা। অর্থাৎ অল্প সময়েই অস্বাভাবিক হারে সুদ ও চার্জ আরোপ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে শুরু হয় ভয়ভীতি, মানসিক চাপ এবং হুমকি-ধমকি। অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকের মোবাইলের তথ্য অ্যাক্সেস করে ব্যক্তিগত ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ ডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পরে সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে জালিয়াতির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
এক অনুসন্ধানে এক সংবাদকর্মী পরীক্ষামূলকভাবে একটি অ্যাপে আবেদন করে ২৫ এপ্রিল সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে ০১৮৪০-৮৮১৭৪০ নম্বর থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১ হাজার ৮০০ টাকা পান। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ১মে থেকে ০১৩০৬-৮৭১৩৯৪, ০১৩৩০-৫৬৭৯৩২ ও ০১৮৩৯-৫৪৩৩০৪ নম্বর থেকে ফোন করে ৩ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। অর্থাৎ এক সপ্তাহে প্রায় ৬৬.৬৭ শতাংশ সুদ দাবি করা হয়। টাকা পরিশোধে বিলম্ব হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিক নিজের পরিচয় প্রকাশ করলে প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
সাংবাদিক জানান তিনি এই মোবাইল নম্বর গুলো দিয়ে রাজশাহী আদালতে এ সকল প্রতারকদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এসব প্রতারক চক্র অনেক সময় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আগেই সতর্কতা জারি করেছে এবং জানিয়েছে, এসব কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সংস্থাটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি জানান, পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ অনুযায়ী এমন অপরাধে জড়িতদের পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনভিত্তিক এই প্রতারণা চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে সাইবার ইউনিট কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এক কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঋণের নামে প্রতারণা এখন একটি সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি সাধারণ মানুষকে অচেনা অ্যাপে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি কোনো ধরনের হুমকি পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সহজ শর্তে দ্রুত ঋণের প্রলোভন যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, এর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ংকর প্রতারণা। তাই সচেতনতা, সতর্কতা এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অ্যাপ ব্যবহার না করাই হতে পারে এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com