মিজানুর রহমান, মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরায় একটি ভোটকেন্দ্রের ক্যামেরা দুর্বৃত্তদের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
গত ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাত ৭ -৭:৩০ এর মধ্যে ঘটনাটি ঘটে।
আসন্ন ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে , প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাগুরায় ৩০১ টি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন, মাগুরা জেলার টার্নিং অফিসার, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। ৩০১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মাগুরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটফালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটিতেও গত ২০ তারিখ বিকাল ৪:০০ টায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় , তিন ঘন্টা যেতে না যেতেই রাত ৭থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা সিসি ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলে।
সিসি ক্যামেরা শনাক্ত করে ভিডিও তদারকি করে দেখা যায় এক দুর্বৃত্ত বাঁশ দিয়ে বাড়ি দিয়ে ক্যামেরাটি ভাঙ্গে এতে আলোর স্বল্পতার কারণে দুর্বৃত্তের চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি তবে ক্যামেরা ভাঙ্গার ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে কয়েকজন ছেলেকে সেখানে থেকে যেতে দেখা যায় সংশ্লিষ্টের ধারণা এদের মধ্যেই কেউ একজন হতে পারে। এদের মধ্যে যারা ছিল তারা হলো, ডেফুলিয়া গ্রামের আমানুর বিশ্বাসের ছেলে, রহমত আলী, ছোটফালিয়া গ্রামের আকামত আলীর ছেলে আকাশ , পাটকেল বাড়ি গ্রামের আব্দুল লতিবের ছেলে, রোমেন হোসেন, ছোটফালিয়া গ্রামের সমিরন নেছার ছেলে মহায়মীন, ডেফুলিয়া গ্রামের বাটুলের ছেলে মিঠুন, পাটকেল বাড়ি গ্রামের নাসিরুলের ছেলে আব্দুল কাদের।
প্রতিষ্ঠান প্রধান ,মো: মিজানুর রহমান জানান,
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্বাচনের কার্যক্রম আরো সঠিক ও স্বচ্ছভাবে তদারকি করার লক্ষ্যে ২০ তারিখে আমার বিদ্যালয় রাস্তা এবং খেলার মাঠ কাভারেজের জন্য দুটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করি ঐদিন রাতেই কে বা কাহারা অসৎ উদ্দেশ্য সিসি ক্যামেরাটা ভেঙে ফেলে যা আমার বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের ঝুঁকি বলে আমি মনে করছি, বিষয়টি স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষকদের অবগতি করে সিসি ক্যামেরা শনাক্ত করে স্থানীয় ৬ জন ছেলেকে সনাক্ত করেছি, এটি নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগোচ্ছি যাতে নির্বাচনে নির্বিঘ্নে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয় সেই সাথে যারা অপরাধ করেছে তারা যেন শনাক্ত হয় এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেই কামনা করছি। এ বিষয়ে আমরা একটি জিডি প্রস্তুত করেছি যেহেতু তাৎক্ষণিক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করিনি সিসি ক্যামেরা দেখে পুরোপুরি দোষীদের শনাক্ত করে জিডি অথবা মামলা করব।
নৈশপ্রহরী আফজাল হোসেন বলেন, আমি রাতে খাবার খেয়ে স্কুলে আসি আসার পরে দেখি ডেফুলিয়া গ্রামের আমানুরের ছেলে রহমত সাইকেল নিয়ে বের হচ্ছে , তিনি এখানে কেন জিজ্ঞাসা করলে সে বলে কাকা আমি সাইকেল রেখে গিয়েছিলাম সাইকেল নিতে আসছি, পরে সে চলে যায় আমি রাতে দেখি নাই সিসি ক্যামেরা ভাঙ্গা সকালবেলা দেখতে পাই ক্যামেরাটি ভাঙ্গা রয়েছে পরে আমি কর্তৃপক্ষকে জানাই, আমার ধারণা ওদের সাথে আরও কয়েকজন থেকে এই কাজটি করেছে।
স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ধারণা করছেন কিছু মাদক সেবন কারি এই ঘটনাটি ঘটাতে পারে, কেননা সন্ধ্যা হলেই স্কুলের আশপাশের এলাকায় মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়।