মনজুরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : যমুনা নদীর তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী বেলকুচি পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিকল্পিত মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উপজেলা বিএনপির প্রবীণ ও পরীক্ষিত নেতা হাজী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সমর্থন এবং পৌরবাসীর প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলে দীর্ঘদিনের নাগরিক বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে একটি জনকল্যাণমুখী ও স্মার্ট পৌরসভা উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বেলকুচি পৌরসভাটি বর্তমান সময়ে একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। প্রায় ১৯.৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌর এলাকায় রয়েছে ৯টি ওয়ার্ড। নদীমাতৃক এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার পরিধি বাড়াতে আবারও পরিবর্তন ও সুশাসনের ডাক দিয়েছেন এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও রাজপথের পথচলাঃ
প্রায় চার দশক হল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন হাজী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল। তার রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ, পরীক্ষা এবং প্রতিকূলতার এক দীর্ঘ ইতিহাস। উল্লেখযোগ্য হলো:
১৯৯০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদানের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনের শুভসূচনা।
১৯৯১ সালে বেলকুচি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।
১৯৯২ সালে বেলকুচি থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৯৪ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা এবং তার গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার মুখোমুখি হন।
১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান 'রজনীগন্ধা সিনেমা হলে' হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়, যার ফলে তিনি বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
২০০২-২০০৪: বেলকুচি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০২ সালে ১নং বেলকুচি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ৩৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন; ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।
২০০৪ সালে বেলকুচি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ।
২০১১ সালে বেলকুচি পৌরসভা নির্বাচনে থানা বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন এবং মাত্র ১৫২ ভোটের ব্যবধানে তাকে পরাজিত দেখানো হয় বলে ফলাফলে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন।
নাগরিক সেবায় যুগোপযোগী ও গঠনমূলক পরিকল্পনাঃ
নির্বাচিত হলে বেলকুচি পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ জনপদে রূপ দিতে সুনির্দিষ্ট কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন হাজী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল। তার প্রস্তাবিত রূপরেখার প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
নিরাপদ পৌরশহর গঠনঃ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে চুরি, ডাকাতি, ইভটিজিং ও মাদক ব্যবসা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাঃ শহরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ।
নাগরিক বিনোদনঃ নাগরিকদের মানসিক প্রশান্তি ও বিনোদনের জন্য দৃষ্টিনন্দন পৌর পার্ক স্থাপন।
ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নঃ একসঙ্গে বড় জমায়েতে ঈদের নামাজ আদায়ের সুবিধার জন্য পৌর ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ।
ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারঃ হকারদের পুনর্বাসন এবং পৌর বাজারকে আধুনিক ও শৃঙ্খলিতভাবে সাজাতে পৌর হকার্স মার্কেট স্থাপন।
যোগাযোগ ও জলাবদ্ধতা নিরসনঃভাঙা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা দূরীকরণে আধুনিক ও প্রশস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
শিক্ষাখাতঃস্কুল,কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া।
ভবিষ্যত ভাবনাঃ
রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ধাপে নানা প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেও যিনি জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অবিচল ছিলেন, সেই হাজী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পেলে বেলকুচি পৌরসভা একটি রোল মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে—এমনটাই এখন এলাকার সুধীসমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।