আশাদুল হাবিব দুলু, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বেসরকারি হলিকেয়ার ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর চিকিৎসায় অবহেলার শিকার হয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস জীম (১৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। টানা ১৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১০ মে (রবিবার) বিকেলে রংপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়
নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস জীম কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গংগারহাট এলাকার মোহাম্মদ জহুরুল হকের কন্যা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল প্রসব ব্যথা উঠলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে নাগেশ্বরীর হলিকেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাত ৪টার দিকে ডা. রোকেয়া আক্তার বিজলীর তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশনের মাধ্যমে একটি সুস্থ সন্তান জন্ম নিলেও এরপরই শুরু হয় জটিলতা।
নিহতের স্বজনদের দাবি, অপারেশনের পর থেকেই জীমের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরিবারের দাবি, অজ্ঞান করার ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় প্রসূতির কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয়।রংপুর প্রাইম মেডিকেল এর চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, সিজার করার সময় প্রস্রাবের নালি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল, যার ফলে তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়।
রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তাকে অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়।
পরবর্তীতে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জীমকে রংপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ আইসিইউসহ বিভিন্ন জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১০ মে বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রসূতির এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা এই ঘটনার জন্য ডা. রোকেয়া আক্তার বিজলী এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হলিকেয়ার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর সেবার মান এবং চিকিৎসকদের দক্ষতা নিয়ে নিয়মিত তদারকি না থাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা বারবার ঘটছে।