বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাকেরগঞ্জে চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে তুলে নেওয়ার পর এক ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের কাটাখালী বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রবীন হাওলাদার।
রবীন হাওলাদারের অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে কাটাখালী বাজারে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি তার।
এ ঘটনায় তিনি বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৫৬২। পরে মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। মীমাংসার পর রবীন হাওলাদার আদালতের মামলাটি তুলে নেন বলে জানান।
তবে তার অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার পরই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। শুক্রবার সকালে কাটাখালী বাজারে তার ব্যক্তিমালিকানাধীন ইলেকট্রনিক্সের দোকানে একদল লোক হামলা চালায়। এ সময় দোকানে ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রবীন হাওলাদারের দাবি, গারুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোতালেব খানের উপস্থিতিতে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাসান গাজী, সৌয়দ গাজী, তুহিন গাজী, জসিম গাজী ও তিতাস গাজীসহ ১০ থেকে ২০ জনের একটি দল দোকানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকানের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই তার সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে আদালতের মামলাও প্রত্যাহার করেন তিনি। এরপরও কেন তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটল—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ঘটনার পর কাটাখালী বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্য বাজারে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠায় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তবে দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগের সত্যতা, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী রবীন হাওলাদারের করা চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং পরবর্তী মীমাংসার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।