June 4, 2026, 7:41 pm

শিরোনাম :
জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে “নবজাগরণ পাঠাগার” এর আত্মপ্রকাশ নীলফামারীতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের দাবিতে আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে বজ্রপাতে দুই গাভীর মৃত্যু, দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইউনুছার রহমান চির নিদ্রায় সায়িত হলেন এমপি আবুল হোসেন খানের বড় ভাইয়ের সহধর্মিনী কোহিনুর বেগম । সাপাহারে রাস্তার পাশে পরিত্যাক্ত পশু চামড়ার স্তুপ দুর্গন্ধে জনজীবণ অতিষ্ঠ সাপাহার আম বাজারে যানজট নিরসনে প্রশাসনের অভিযান সাপাহারে জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় পোরশায় ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক বাকেরগঞ্জে এমপি আবুল হোসেন খানের বড় ভাইয়ের স্ত্রীর ইন্তেকাল নওগাঁয় নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন, শহরের বাইরে বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরের দাবি

বগুড়ার সংরক্ষিত নারী আসনে মরিয়ম চৌধুরীকে দেখতে চাই

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বগুড়া একমাত্র নারী ব‌্যা‌রিস্টার শান্তাহা‌রের মারিয়াম চৌধুরী প্রজ্ঞা কে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসাবে দেখতে চাই এলাকা বাসী।
তার জন‌সেবামুলক কা‌জের মাধ‌্যমে বগুড়ার গণমানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছেন ব্যারিস্টার মারিয়াম চৌধুরী।

মারিয়াম চৌধুরীর জন্ম দাদার নিজ বাস ভবন চৌধুরী ম্যানশন, শান্তাহার । থানা আদমদিঘী। জেলা বগুড়া। বাবা মাসুদ আহমেদ চৌধুরী, মা বুলবুলি চৌধুরী।

মারিয়াম চৌধুরির বেড়ে ওঠা সান্তাহার শহরে। শান্তাহারের প্রাচিনতম শান্তাহার মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখায় হাতে খড়ি। এখানে পঞ্চম শ্রেণি তারপর শান্তাহার এর ঐতিহ্যবাহী একমাত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সান্তাহার হারভে গার্লস হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি তারপর জয়পুরহাট মিশন গার্লস বিদ্যালয় থেকে এসএসসি। নওগাঁ মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি। পরবর্তী ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এল এল বি অনার্স এবং লিংকনস ইন থেকে বার এট ল সাফল্যের সাথে কমপ্লিট করে।

মারিয়াম চৌধুরীর দাদা মরহুম নুর সাহেব চৌধুরী অত্র এলাকার একজন স্বনামধন্য সমাজ সেবক ক্রীড়ানুরাগী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন। মরহুম নূর সাহেব চৌধুরী তদানিন্তন পাকিস্তান আমলে ষাট এর দশকে এলাকার তরুণ ও যুবক সমাজ বিপথে না যায় সেজন‌্য এলাকায় বিভিন্ন ক্লাব ও পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় তার অনন্য ভূমিকা ছিল এবং তিনি নিজে ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন।

বই পড়া তার শখ ছিল। তাই এলাকার যুব সমাজ যাতে বিপথে না যায় তার জন্য সব সময় আর্থিক সহোযোগিতার হাত সর্বদা প্রসারিত ছিল।
মারিয়াম চৌধুরীর বাবারা ৮ ভাই তিন বোন ছিলেন। তার দাদি চৌধুরাণী খাদিজা বেগম। নওগাঁ জেলার রাণী নগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম রাতোয়ালের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের একমাত্র কন্যা ছিলেন। তার স্বামী নূর সাহেব চৌধুরী সান্তাহারের প্রথম সিনেমা হল আজাদ সিনেমা হলের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।
অত্র এলাকার সবচেয়ে বড় পাইকারি কাপড় ব্যবসা ছাড়াও ছিল কয়েকটি রাইস মিল। ছি‌লেন খাদ্য বিভাগের কনস্ট্রাকশন ঠিকাদার ও খাদ্য বিভাগের প্রথম শ্রেণির ক্যারিং contrakter ছিলেন।

৭১ এর যুদ্ধকা‌লে ‌পাক হানাদার বা‌হিনী কিভা‌বে তাঁর প‌রিবা‌রের ১৭ জন‌কে ‌নির্মমভা‌বে হত‌্যা ক‌রে দেখুন তাঁর বর্ণনা।

১৯৭১ এর ২২ শে এপ্রিল বেলা ১২:৩০ মি train যোগে পাক হানাদার বাহিনী সান্তাহারে প্রবেশ করে। বাংলা ভাষি দেখা মাত্র গুলি করে। গণহত্যা শুরু করে। ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। ঐদিন দুর্ভাগ্যবশত তদানীন্তন আওয়ামী নেত্রী বর্গ ও সেচছা সেবক লীগের সদস্যরা একট ভুল তথ্য শহরে মাইকিং করে প্রচার করে ব‌লে যে মিত্র বাহিনী আসিতেছে আপনারা বাড়িঘর ছেড়ে কেউ কোথাও যাবেন না। এই সংবাদে অনেকে বিভ্রান্তে পড়ে যায়। নিজ বাড়িতেই থেকে যায়। বেলা ১:৩০ টায় পাক হানাদার বাহিনী মা‌রিয়াম চৌধুরীর দাদার বাড়ি ঘেরাও করে নেয়। তার দাদা দাদী দাদীর মা আশি উর্ধ্ব বয়স্ক সহ তার বড় আব্বু ও ফুফু তাদের পরিবারের ১৭ জন কে নির্মম ভাবে হত্যা করে।

তার বাবা ও দুই চাচা অনেক ছোট থাকায় তাদের আর হত্যা করে না। ভাগ্য ক্রমে বেচে যায়। ঐ দিন যেহেতু নূর সাহেব চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে কোথাও যান নি তা দেখে তাদের প্রতিবেশি ৪ টি পরিবার বাড়িতে থেকে যায় এবং ঐ ৪ বাড়ির ২৯ জন কে হানাদার বাহিনী নির্মম ভাবে হত্যা করে।

এই ৫ টি পরিবারের ৩৯ জন কে ২ দিন পর পাক সেনারা তার দাদার বাড়ির সামনে ৩৯ নারী পুরুষ কে এক জায়গায় মাটি চাঁপা দেয়। দেশ স্বাধীনের পর তার বড় আব্বু প্রতিবেশি দের সহোযোগিতায় হাড়‌গোড় তুলে এনে তার দাদার বাড়ির কুয়ায় গণকবর হিসাবে রেখে দেয় যা আজও ওভাবে আছে।

আইন পেশা থেকে জনসেবা: ব্যারিস্টার মারিয়ামের এক দশকের পথচলা।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মারিয়াম চৌধুরী দীর্ঘ এক দশক ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে তৃণমূলে কাজ করে যাচ্ছেন।

২০১৫ সালে উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যারিস্টার মারিয়াম বর্তমানে ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’- এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং বগুড়া জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের জন্মস্থান শান্তাহার (আদমদীঘি, বগুড়া) হওয়ায় তিনি বগুড়া ও নওগাঁ- উভয় জেলাতেই প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি নিয়মিত ভূমিকা রাখছেন।

পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও তিনি বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রমজীবী মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি শ্রমিকদের বিভিন্ন আইনি সমস্যায় দীর্ঘ দিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন।

বগুড়া জেলার সর্বপ্রথম নারী ব্যারিস্টার হিসেবে মারিয়াম চৌধুরী এলাকার নারী সমাজ ও তরুণদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি শান্তাহার-আদমদীঘি সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০০টি বৃক্ষ রোপণ করেছেন। এ ছাড়া প্রতি বছর শীতবস্ত্র বিতরণ ও ইফতার মাহফিলের মতো জনসেবামূলক কাজে তিনি সক্রিয় থাকেন।

একজন আইনজীবী হিসেবে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের নমিনেশন জটিলতা নিরসন, ডকুমেন্টেশন এবং আইনি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে বহু প্রার্থীকে তিনি পেশাগত সহায়তা করেছেন।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মারিয়াম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমার লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা।

তার জন‌সেবামুলক ক‌ র্মের মাধ‌্যমে বগুড়ার গণমানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছেন ব্যারিস্টার মারিয়াম চৌধুরী।

বাংলা‌দেশ জাতীয়তাবাদী দ‌লের বগুড়া সংর‌ক্ষিত নারী আসন থে‌কে তি‌নি ম‌নোনয়ন প্রত‌্যা‌শী।
তি‌নি যেন তার জন‌সেবামুলক কাজ আরও বেগবান কর‌ার সু‌যোগ পান এই আশা ও দোয়া রা‌খছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *