আশাদুল হাবিব দুলু ফুলবাড়ি উপজেলা প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে অবৈধ অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো) পরিচালনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, অনলাইন জুয়ার বিস্তারের কারণে অনেক কিশোর ও তরুণ সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে তাদের মধ্যে মাদকাসক্তি, চুরি এবং অন্যান্য অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবার ও সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে কাশিপুর ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোঃ ওবায়দুল সরকার, ব্র্যাকের প্রগতি অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম এবং কাশিপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রয়েল তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সহকারী অধ্যাপক মোঃ ওবায়দুল সরকার বলেন, অনলাইন জুয়ার বিস্তার তরুণ সমাজকে ধীরে ধীরে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা তাদের শিক্ষা, নৈতিকতা ও ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি। তিনি অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ব্র্যাকের প্রগতি অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনলাইন জুয়া শুধু একজন ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ এ নেশায় জড়িয়ে পড়ে আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়ছে। তিনি এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, অল্প বয়সী ছেলেদের অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
কাশিপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রয়েল বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া নিয়ে নানা অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, জাকির ও সহিদুল নামে দুই ব্যক্তি অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ক্যাসিনো অ্যাপের মাধ্যমে বিশেষ করে ১২ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোর-তরুণদের এসব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ অনলাইন জুয়া বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধের ঝুঁকি থেকে রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কাশিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাদের বিশ্বাস, যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং সুস্থ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
https://www.kaabait.com