এম. আনোয়ার হোসেনঃঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আয়োজিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান সরাসরি উপভোগের সুযোগ থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর টি অ্যান্ড টি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলেজটির গভর্নিং বডি। ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য অধ্যক্ষকে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।
গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ প্রদান করা হয়। জানা যায়, গত ৭ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি এবং ১২ হাজার শিক্ষকের আইসিটি-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনাসত্ত্বেও কলেজের অধ্যক্ষ এ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। অথচ অনুষ্ঠানটি সরাসরি বড় পর্দায় বা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে প্রদর্শনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা এ অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা চরম হতাশ হয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
গভর্নিং বডির সভাপতির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শিক্ষা বিষয়ক অনুষ্ঠানটি দেখার ব্যবস্থা না করা এবং শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি সরকারি সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত অবমাননা। এছাড়া, এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে অবহিত না করার বিষয়টি অধ্যক্ষের চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে তাকেও এ বিষয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছে, যা প্রশাসনিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।
এহেন পরিস্থিতিতে, কেন এবং কী কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখার ব্যবস্থা করা হলো না এবং কেন সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলো না, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে (১৬ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে) লিখিতভাবে প্রদানের জন্য অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে রাষ্ট্রীয় ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত করার এই ঘটনায় শিক্ষা অঙ্গনে নিন্দার ঝড় বইছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অধ্যক্ষের এই দায়িত্বহীনতা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। এ বিষয়ে টি অ্যান্ড টি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এবিষয়ে টিঅ্যান্ডটি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান মহোদয় যে উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন, তা ছিল উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের একটি অংশ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বারবার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও, কেন আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের সেই অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলো? কেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অভিভাবকদের এই আয়োজনে যুক্ত করা হলো না? একজন অধ্যক্ষের কাছে যে দায়বদ্ধতা ও দূরদর্শিতা আশা করা হয়, এখানে তার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। টি অ্যান্ড টি কলেজ একটি শৃঙ্খল এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এখানে কোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।