বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান রাজশাহীঃ রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জারি করা সরকারি বদলির আদেশ কার্যকর না করে এক নিরাপত্তা প্রহরীকে আগের কর্মস্থলেই বহাল রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে মোহনপুর এলএসডির (লোকাল স্টোর ডিপো) নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহন আহমেদের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নওহাটা এলএসডি, পবা-এ কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরী মো. ইসমাইল হোসেনকে মোহনপুর এলএসডিতে এবং ভবানীগঞ্জ এলএসডিতে কর্মরত মো. শাহজাহান আলীকে নওহাটা এলএসডিতে বদলি করা হয়।
ওই অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এ বদলি করা হয়েছে এবং আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বদলিকৃত কর্মচারীদের বিধি অনুযায়ী নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বদলির আদেশ জারির প্রায় এক মাস হলেও নিরাপত্তা প্রহরী মো. ইসমাইল হোসেন এখনো পবা এলএসডিতেই দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে মোহনপুর এলএসডিতে নিরাপত্তা প্রহরীর পদটি কার্যত শূন্য থাকায় খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, নওহাটা পবা এলএসডিতে দায়িত্ব পালনকালে নিরাপত্তা প্রহরী মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে পরিবহন ঠিকাদার ও ট্রাকচালকদের কাছ থেকে টাকা দাবির অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিবহন ঠিকাদারদের ফোন করে খাদ্য গুদামে ট্রাক পাঠানোর জন্য বলা হতো। পরে ট্রাক গুদামে পৌঁছানোর পর মালামাল লোড করার আগে শ্রমিক খরচের কথা বলে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হতো।
অভিযোগকারীদের দাবি, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ট্রাকে মালামাল তোলার কাজে নানা অজুহাতে বিলম্ব করা হতো। এমনকি কখনো কখনো লোডিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ অব্যাহত রাখতেই নিরাপত্তা প্রহরী মো. ইসমাইল হোসেন বদলির আদেশ কার্যকর করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানে গড়িমসি করছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য হলো, পবা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কিছু অসমাপ্ত কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তার পরামর্শেই তিনি এখনো মোহনপুর এলএসডিতে যোগদান করেননি। তিনি জানান, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে নতুন কর্মস্থল মোহনপুর এলএসডিতে যোগদান করবেন।
এ বিষয়ে পবা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নুরন্নবী বলেন, মো. ইসমাইল হোসেনের বদলির আদেশ হওয়ার বিষয়টি তার জানা আছে। তবে তিনি কেন এখনো পবায় কর্মরত রয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না।
তিনি এ বিষয়ে জানতে পবা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
পরে পবা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত ও অফিসের কিছু অসমাপ্ত কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে এখনো মোহনপুরে পাঠানো হয়নি।
সরকারি বদলির আদেশ কার্যকর না করে কীভাবে একজন কর্মচারীকে আগের কর্মস্থলে রাখা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার ক্ষমতাবলে আমি তাকে এখানে রাখতে পারি।”
এদিকে, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক সুবিধার কারণে নিরাপত্তা প্রহরী মো. ইসমাইল হোসেনকে পবায় রেখে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মিজানুর রহমান কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
মোহনপুর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা প্রহরী মো. ইসমাইল হোসেনের বদলির বিষয়টি নিয়ে তিনি পবা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নুরন্নবীকে কয়েকবার জানিয়েছেন। কিন্তু কী কারণে তাকে ছাড়ানো হচ্ছে না, তা তার বোধগম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. এহসানুল হকের সঙ্গেও কথা বলেছেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তাকে জানিয়েছেন, সরকারি বদলির আদেশ উপেক্ষা করে পবায় বহাল থাকা নিরাপত্তা প্রহরী মো. ইসমাইল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. এহসানুল হককে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও লোডিং কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সরকারি বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়া এবং নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পরই প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।