সালমান সাদিক নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুর উপজেলার জেলেদের ওপর পদ্মা নদীতে আবারো সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চার জেলেকে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে পদ্মার চরাঞ্চলজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মাজদিয়া ইসলামপাড়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—নাটোরের লালপুর উপজেলার তিলকপুর এলাকার মোহাম্মদ মন্ডলের ছেলে সাইদুর মন্ডল (৬৫), সমতউল্লা প্রামানিকের ছেলে সোহেল রানা (৩৭), মজেল প্রামানিকের ছেলে মজনু (৪২) এবং সোহেল রানার ছেলে শিশির আহমেদ (১৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিলকপুর এলাকার ১০ জন জেলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দল নৌকার কাছে এসে জেলেদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরে হামলাকারীরা জেলেদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে চারজন গুরুতর আহত হন।
নদীতে থাকা অন্যান্য জেলেরা আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাইদুর মন্ডল, সোহেল রানা ও মজনু বাড়ি ফিরে যান। তবে গুরুতর আহত শিশির আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত শিশির আহমেদ জানান, তারা দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার মাজদিয়া ইসলামপাড়া ঘাট এলাকায় নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় ২০-২৫ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল ‘কাকন বাহিনীর সদস্য’ সন্দেহে তাদের নৌকাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। পরে জিম্মি করে তাদের নদীর কিনারায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৬ জুন লালপুর উপজেলার রাইটার চর এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি ভাসমান নৌকা থেকে সাহাবুল প্রামানিক (৪২) এবং ৯ জুন চরজাজিরা এলাকায় একটি স্পিডবোট থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আজিজুল হক ঝড়ুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, নদীতে গুলিবর্ষণ ও জেলেদের ওপর হামলার বিষয়টি তার জানা নেই।
অন্যদিকে, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। যেহেতু ঘটনাস্থল ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্যে, তাই বিষয়টি ঈশ্বরদী থানা পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
https://www.kaabait.com