June 4, 2026, 12:01 pm

শিরোনাম :
জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে “নবজাগরণ পাঠাগার” এর আত্মপ্রকাশ নীলফামারীতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের দাবিতে আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে বজ্রপাতে দুই গাভীর মৃত্যু, দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইউনুছার রহমান চির নিদ্রায় সায়িত হলেন এমপি আবুল হোসেন খানের বড় ভাইয়ের সহধর্মিনী কোহিনুর বেগম । সাপাহারে রাস্তার পাশে পরিত্যাক্ত পশু চামড়ার স্তুপ দুর্গন্ধে জনজীবণ অতিষ্ঠ সাপাহার আম বাজারে যানজট নিরসনে প্রশাসনের অভিযান সাপাহারে জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় পোরশায় ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক বাকেরগঞ্জে এমপি আবুল হোসেন খানের বড় ভাইয়ের স্ত্রীর ইন্তেকাল নওগাঁয় নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন, শহরের বাইরে বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরের দাবি

নীলফামারীতে গোড়গ্রাম ইউপি প্রশাসক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ দায়ের

রাবিব রহমান নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ দাখিলের সময় উপস্থিত ছিলেন গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মইনুল ইসলাম, ৫নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ডের অলিয়ার রহমান, ৮নং ওয়ার্ডের মমিনুর রহমান, ৯নং ওয়ার্ডের মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সিদ্দিকা বেগম, চম্পা রানী ও বিলকিস বেগম।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সাবেক চেয়ারম্যান অপসারণের পর ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর মোঃ আলমগীর হোসেন গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্প, ভাতা কার্যক্রম ও বিভিন্ন সরকারি সেবায় ধারাবাহিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে থাকে। অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচির উপকারভোগীদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির নামে জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে প্রায় তিন লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিল উত্তোলন, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ভিডব্লিউবি কার্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে প্রতিটি কার্ডে ৫ হাজার টাকা করে আদায়, টিউবওয়েল ও কাবিখা প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে দুই দফায় প্রায় ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসকের নিজ নামে প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও ইউনিয়নে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।
এছাড়া প্রশাসকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে মামলা ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে ইউপি সদস্যদের নীরব থাকতে বাধ্য করা হতো। মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায়, উন্নয়ন বরাদ্দের টিন বিতরণে অনিয়ম এবং গ্রাম আদালত কমিটির নিয়মিত সভা না করার মতো গুরুতর অনিয়মের কথাও অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *