রংপুর অফিস
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সহিংসতা ও সংঘর্ষে দেশের মানুষ উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। বিভিন্ন দিক থেকে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য নানা ধরনের ভয়-ভীতি ও শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই শক্তি প্রদর্শনের মাঝে কখনই সঠিক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে না। দেশে কে কাকে হানাহানি করবে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমাঝোতা থাকলে দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল থাকতো।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারী) বিকেলে ঢাকা থেকে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণার উদ্দেশ্যে রংপুরে এসে পৈত্রিক বাড়ি স্কাইভিউতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জিএম কাদের বলেন, দেশে চলমান নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু বলা যাবে না। একটি বড় দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হচ্ছে। সকল দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হচ্ছে না। অপরদিকে দুটি দল দেশে যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, সেই সুযোগ আমরা পাচ্ছি না। নেতাকর্মী ও প্রার্থী নয়, ভোটারদেরও ভোট না দিতে আসার হুমকি দেয়া হচ্ছে। কাজেই এ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে দু-একজন আবারও দাবী তুলেছিল অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন। যেটা সম্পূর্ণ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ থাকবে। এরকম পরিবেশ থাকলে সুন্দর নির্বাচন হবে। না হলে একতরফাভাবে ফল ঘোষনা হলে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে না। দেশে সংঘর্ষ বেড়ে যাবে। রাজনৈতিক, সামাজিক স্থিতিশীলতা না থাকলে দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না। আমরা মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। যেখাবে বাঁধা পাচ্ছি, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রাজনীতির সাথে দেশের সিংহভাগ মানুষ সমর্থন জানিয়েছে। জনগণ আমাদের উপর আস্থা রেখেছে। আমরা এই আস্থার ভাল ফল পাবো বলে প্রত্যাশা করছি।
গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, গণভোট সম্পর্কে কেউ না জেনে হ্যাঁতে ভোট দিলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা বারবার কথাটি বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি। সরকার গণভোটের কথা বলে সংস্কারের নামে মুলা ঝুলাতে চাচ্ছে। সংস্কার যেটা বলছে, সেটা পরিস্কারভাবে বলছে না। গণভোটে তারা হ্যাঁকে জয়ী করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। অর্ন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকা মানে জামায়াত ও এনসিপি ক্ষমতায় থাকা। তারা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য গণভোটের বাহানা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার কিভাবে দেশ শাসন করবে, সেটা আমাদের ভালভাবে বুঝতে হবে। তারা একটি সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদ সমৃদ্ধ দেশ, যেটা পাকিস্তানের সাথে কিছুটা মিলবে অর্থ্যাৎ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ করে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি, সেটাকে তারা ভূল বলছে। কাজেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে তারা বিসর্জন দিয়ে পাকিস্তানী আধিপত্যবাদমূলক রাষ্ট্র গঠন করবে। এটার শেষ ধাপ হলো গণভোট।
জিএম কাদের বলেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং নৃশংসভাবে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। মব তৈরি করে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, মিল ফ্যাক্টরী ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে, মানুষকে বেজ্জতী করা হচ্ছে, মেরে মানুষকে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। এর থেকে মুক্তি চাইলে গণভোটে না বলতে হবে। এদেরকে আর ক্ষমতায় থাকতে দেয়া যাবে না। গণভোটে হ্যাঁ জিতলে আজাদী হবে না গোলামী হবে। ইসনসাফ হবে না বেইনসাফ হবে। বাংলাদেশে এখন ন্যায়-নীতি বহির্ভূত অন্যায়ের সরকার রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু, জাপা নেতা ফারুক আহমেদসহ অন্যরা।