আব্দুর রউফ উজ্জল, নন্দীগ্রাম (বগুড়া)প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কের নন্দীগ্রাম সীমানা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়নকাজ গত ১২ মে নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কের কইগাড়ি মোড়ে উদ্বোধন করেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই কাজের মান নিয়ে নিয়মিত নজরদারি করছেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন। কাজের নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং দুই উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কটি সর্বশেষ ২০১৭ সালের দিকে সংস্কার করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের পর কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সড়কটির বড় একটি অংশ যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সড়কের গর্তে ইটের হেরিং-বোন সোলিং করে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার পাকা সড়কের প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার অংশে এ ধরনের জোড়াতালি দেওয়ায় দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে তা আরও বেড়ে যায়।সড়কটির বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং শত শত ছোট-বড় ট্রাক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করত। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত থাকায় প্রায়ই ঘটত ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সব মিলিয়ে সড়কটি হয়ে উঠেছিল দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ।নন্দীগ্রাম ও শেরপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন।সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে জরুরি রোগী পরিবহনেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে মানুষকে। কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে যেমন সময় ও খরচ বেড়েছে, তেমনি ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদেরও প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।দীর্ঘদিনের সেই দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।স্থানীয়রা বলছেন, কাজটি যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে নন্দীগ্রাম ও শেরপুরের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।সড়কটির উন্নয়নকাজ উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকে গুরুত্ব দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কাহালু-নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি রাস্তার উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম-শেরপুর সড়কের কাজ সম্পন্ন হলে পথচারী, কৃষক, শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
https://www.kaabait.com