নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃবগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের রিধইল গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকার সুপরিচিত সমাজসেবক, সাবেক ইউপি সদস্য ও শিক্ষানুরাগী মনসুর রহমান সরকার আর নেই। বুধবার (২৭ মে) সকালে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর।
তিনি উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের রিধইল সরকারপাড়ার মৃত আনারউদ্দিন সরকারের ছেলে। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। গ্রামের অলিগলি যেন ভারী হয়ে ওঠে কান্না আর স্মৃতিচারণে।
স্থানীয়রা জানান, মনসুর রহমান সরকার ছিলেন একজন সাদামাটা, মানবিক ও পরোপকারী মানুষ। দীর্ঘদিন তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন। সমাজ উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে তার ছিল উল্লেখযোগ্য অবদান। তিনি রিধইল রাহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার সাবেক সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) হিসেবে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, চাচা অনেক ভালো মনের মানুষ ছিলেন দোয়া করি আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর, পৌর বিএনপির সভাপতি আলেকজান্ডার, সেক্রেটারি কে এম শফিউল আলম সুমন, বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া, রিধইল রাহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফজলুর রহমান, নন্দীগ্রাম মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক জাকারিয়া লিটন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রউফ উজ্জলসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এলাকাবাসী বলেন, মনসুর সরকার ছিলেন গরিব-দুঃখী মানুষের আশ্রয়স্থল। তিনি কাউকে খালি হাতে ফেরাতেন না। তার মতো মানুষ হারানো এলাকায় অপূরণীয় ক্ষতি।
তার মৃত্যুতে রিধইল গ্রামজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল শোক আর স্মৃতির ভার।