নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধিঃপবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বগুড়ার নন্দীগ্রামে অসচ্ছল, দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় একযোগে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়ন, ২নং নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন, ৩নং ভাটরা ইউনিয়ন, ৪নং থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন, ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়ন এবং নন্দীগ্রাম পৌরসভায় মোট ১৫ হাজার ২০১টি পরিবারের মাঝে এই ভিজিএফ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা ১১টায় ১নং বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা। এ সময় তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেন কোনো পরিবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরদার ফজলুল করিম, ইউপি সচিব আলমগীর কবির বাবু, ট্যাগ অফিসার রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নে পৃথকভাবে চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম, ইউপি সদস্য হাশেম আলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়নের দুস্থ, অসচ্ছল ও অতি দরিদ্র পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে সরকার এই সহায়তা প্রদান করছে। আমরা চেষ্টা করছি প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে।
চাল নিতে আসা অনেক উপকারভোগী জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সরকারি সহায়তা তাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি। ঈদকে সামনে রেখে এই চাল পেয়ে তারা খুশি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে এবং পুরো কার্যক্রম কঠোর তদারকির মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে।