নওগাঁ প্রতিনিধি: শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁর ১১টি উপজেলার ১৩টি মরা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় অব্যয়িত ১ কোটি ৩৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৮২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১১টি উপজেলার ১৩টি খাল পুনঃখননের জন্য মোট ৮ কোটি ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৪১৫ টাকা। কাজ শেষে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
পুনঃখননের ফলে দীর্ঘদিনের প্রায় মৃত খালগুলোতে পানি ধারণের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব খালের পানি কৃষিকাজে সেচ হিসেবে ব্যবহার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। পাশাপাশি খালে মাছ চাষ ও হাঁস পালন এবং খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পরিবেশবান্ধব গাছ রোপণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের শ্যামপুর মেইন রাস্তা হয়ে হরিপুর থেকে কালুপাড়া বিল অভিমুখে খাল পুনঃখননের জন্য ৭১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর বিপরীতে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ৭২৮ টাকা ব্যয়ে কাজ শেষ করে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৫১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, হামড়ার বিল থেকে কৃষ্ণপুর অভিমুখে ২ দশমিক ০৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ ছিল ৯০ লাখ ৪২ হাজার ১৫ টাকা। কাজ শেষে ব্যয় হয়েছে ৬৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬৫ টাকা। অবশিষ্ট ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলার একাধিক উপজেলায় কাজের মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগের কথাও জানা গেছে। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।