মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁ শহরে একটি সমবায় সমিতির চাকরি থেকে সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে ভূয়া সংস্থা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে দুই নারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন মোসা. রিনা পারভীন ও মোসা. শাহানাজ বেগম। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার ঋণ ও এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট) গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা আগে ‘সোনার বাংলা সেভিং অ্যান্ড ক্রেডিট’ নামের একটি সমবায় সমিতিতে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে সমিতির মালিক বিদেশে যাওয়ার সুযোগে তারা পরিকল্পিতভাবে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের হরিজন কলোনী, ইদুর বটতলী, শহিদুলের মোড়, কোর্ট চত্বর, ডিগ্রির মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানদারদের চড়া সুদে ঋণ দিয়ে অবৈধভাবে মুনাফা অর্জন করছেন রিনা ও শাহানাজ। এতে অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও হিসাবরক্ষক আঁখি আক্তার বলেন, সমিতির পরিচালক বিদেশ যাওয়ার আগে আমাদের তিনজনকে দায়িত্ব দিয়ে যান। কিন্তু তিনি যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই রিনা পারভীন ও শাহানাজ বেগম পরিকল্পিতভাবে অফিস দখল করে নেন। আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে তারা সমিতির অর্থ আত্মসাৎ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সমিতির কাগজপত্র নিজেদের দখলে নিয়ে তারা জাল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আদালতে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে আমাকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে রিনা পারভীন বলেন, আমি সমিতির দায়িত্ব পালন করছি। ফয়সাল মানুষের টাকা নিয়ে বিদেশে গেছেন। আমার স্বামীর লুৎফর রহমানের কাছ থেকে টাকা নেওয়ায় আমরা মামলা করেছি। তিনি দাবি করেন, সমিতির মাঠ পর্যায়ের ঋণের টাকা আদায় করে হিসাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে শাহানাজ বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং ফোনে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “এ বিষয়ে বেশি কথা বললে আপনাকে দেখে নেওয়া হবে। আমার ছেলে ও অনেক ছাত্রনেতা আছে, সাংবাদিকদের দিয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সমিতির মালিক ফয়সাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে যাওয়ার সময় কর্মচারীদের ওপর দায়িত্ব দিয়ে যাই। কিন্তু তারা অফিস দখল করে অর্থ লুটপাট করে এবং আমার বিরুদ্ধে জাল কাগজে মামলা করে। আমার দেশে ফেরা ঠেকাতেই এসব করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সমিতির অফিসের কাগজপত্র নিয়ে গিয়ে রিনা আক্তারের বাসায় ‘উল্লাস সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে ভুয়া প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে চড়া সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।