June 4, 2026, 1:20 pm
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় বেসরকারি এনজিও রানী’র মাধ্যমে ইসলামিক রিলিফ ইউএসএ”র অর্থায়নে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা ২০২৬ উপলক্ষে প্রায় দেড় হাজার গরীব মানুষের মধ্যে গরুর গেস্ত বিতরণ করার কথা থাকলে-ও আজকের ২য দিন এই গোস্ত বিতরণের সময় গোস্ত নিতে আসা গরীব অসহায় মানুষদের সাথে নানা রকম অনিয়ম এবং প্রতারণা করা হয়েছে। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে।
শুক্রবার নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে গোস্ত বিতরণের দ্বিতীয় দিন। আগে থেকেই গোস্ত দেয়ার জন্য গরীব মানুষদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। বলা হয় প্রত্যেককে ২ কেজি করে গোস্ত দেয়া হবে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে গোস্ত বিতরণের সময় নির্ধারণ করে কার্ড বিতরণ করা হয়। শহরের বিভিন্ন মহল্লা ছাড়াও আশেপাশের গ্রামগুলো থেকেও শত শত মানুষ আসেন গোস্ত নিতে। বেলা ১০টার পর থেকে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদে এসে জমা হতে থাকেন। সাড়ে ১১টা নির্ধারিত সময় থাকলেও বিতরণ শুরু করে দুপুর ২টা থেকে। দুর্বিষহ কষ্ট সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকেন ২ কেজি গোস্ত পাওয়ার আশায়। কিন্তু গোস্ত বিতরণ শুরু হলে নিতে আশা গরীব মানুষদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। এই অসহায়ের দুস্থদের দেয়া হচ্ছে ১ কেজি কিংবা ১ কেজি ৪শ গ্রাম করে। কুরবানীর ঈদ উপলক্ষে রিক্সাভাড়া দ্বিগুণ। একেক জন কমপক্ষে দেড়শ টাকা দিইশ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে সখানে এসেছেন। যারা গ্রাম থেকে এসেছেন তাঁদের তো আরও বেশী। একটা দিন মাটি টাকা মাটি করে মাত্র ১ কেজি গোস্ত। এটা গোস্ত দেয়ার নামে প্রতারণা। কয়েক জন ভুক্তভোগী জানান আমার প্রতিদিন কাজ করে ১ হাজার টাকা পাই। কিন্তু আজকে রানী এনজিওর কারনে আমাদের কোন ইনকাম তো হলোনা বরং আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সঙ্গে বড়ো ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে এর ন্যয় বিচার হওয়ার দরকার। এটা একধরনের ফাজলামি ছাড়া আর কিছু না। এবিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলার বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হলেন মোঃ শাহীন মাহমুদ বলেন অভিযোগ পাওয়ার পর একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছিলো।
উল্লিখিত এনজিও এর প্রাথমিক ডিক্লারেশন এবং বিতরণকালীন ডিক্লারেশন পর্যালোচনা করে রিপোর্টিং এর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এই মূর্হতেই কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবোনা যেহেতু বেসরকারি সংস্থার টাকা আমরা ছাড়পত্র নিতে আসলে ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে মর্মে প্রত্যয়ন দেওয়া হবে।
নওগাঁর বেসরকারি “রানী” এনজিওর প্রধান ফজলুর রহমানের সঙ্গে অভিযোগ বিষয়ে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ভুল ত্রুটি হতেই পারে তা সমাধানের চেষ্টা করছি।
অসহায় দুস্থদের গোস্তচুরি বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন বিষয়টি খুব দুঃখ জনক। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।