জুলহাজ খান মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের ২২/০৩/২০২৬ তারিখে বাজিতপুর যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বাউল সংগীত অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে স্থানীয় বিএনপির কর্মীদের ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চেরাগপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বদিউজ্জামান সবুজ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিলসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তবে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর মঞ্চে উপস্থিতি ও ব্যানারে নাম থাকার বিষয়টি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন চেরাগপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্কাস আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সালাম, কর্মী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং ভীমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আনছার আলীসহ আরও কয়েকজন।
এ বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলেই ফিসফাস শুরু হয় এবং পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায়।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত ছিল। সেখানে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের মঞ্চে স্থান দেওয়ায় অনুষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সদস্য চঞ্চল রহমান।
এ বিষয়ে একাধিক সচেতন ব্যক্তি বলেন, “বাউল সংগীত আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব থাকা উচিত নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।”
তবে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আয়োজক জানান, এটি বাউল গানের অনুষ্ঠান হলেও সেখানে ডিজে গান পরিবেশন করা হয়েছে, যা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখলেও অধিকাংশই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় সাংস্কৃতিক আয়োজন রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।