নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নওগাঁর নিয়ামতপুর : নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের শিবপুর ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ না করার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ কাজের ধরন ও জমির পরিমাণ অনুযায়ী ঘুষের হার নির্ধারণ করে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজিনগর ইউনিয়নের বাঐচন্ডি হঠাৎপাড়া গ্রামের সেবাগ্রহীতা রাব্বুল হাসানের কাছ থেকে তিনি এক একরের বেশি জমির কাজের জন্য প্রকাশ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। টাকা নিজের পকেটে রাখার পর সেবাগ্রহীতাকে শুধু বলেন, “আপনি চলে যান।” কিন্তু এরপরও কোনো কাজ সম্পন্ন হয়নি।
সেবাগ্রহীতা রাব্বুল হাসান বলেন, “শিবপুর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। টাকা দিলেও বারবার ঘুরতে হয়।”
একই ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, জমি খারিজের জন্য প্রায় ১৫ দিন ধরে অফিসে ঘুরছেন। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চারটি খারিজের জন্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নায়েব সাহেবকে নিজ হাতে টাকা দিয়েছি, কিন্তু কোনো রশিদ দেয়নি। এত টাকা দেওয়ার পরও বলছে আরো টাকা লাগবে।
আরেক ভুক্তভোগী তপন কুমার সাটিয়ার, যিনি দীর্ঘ আট বছর ধরে হাজিনগর-চন্দননগর ভূমি অফিসে খণ্ডকালীন কর্মচারী ছিলেন, জানান নতুন অফিসে যোগ দেওয়ার পর সহকারী ভূমি কর্মকর্তার নির্দেশে সরকারি খাজনার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের চাপ দেওয়া হতো। এতে অসম্মতি জানালে তাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ঘুষের এসব অভিযোগ জানতে চাইলে অত্র ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ ঘুষ নেওয়ার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, “কিছু ব্যক্তিকে অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ার কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ফি ছাড়া আমি কোনো লেনদেন করিনি।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল ইসলাম জানান, অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করা হবে। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।