প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই শিক্ষাবর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফলক উন্মোচন শেষে মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক লাইব্রেরি এবং কম্পিউটার ল্যাব ঘুরে দেখেন।
অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এক বর্ণাঢ্য সুধী সমাবেশ ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীসহ নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যরা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশা প্রকাশ করে বলেন, “নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই যাত্রা এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করবে। গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশসেরা ভূমিকা রাখবে।”
কর্মক্ষম জাতি তৈরি করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে হবে শিক্ষা মন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ তৈরি করতে হবে কর্মক্ষম জাতি গঠনের জন্য। আমাদের দেশের জনসংখ্যা বেশি, অতএব এটিকে কাজে লাগাতে হবে। দেশে হিউজ তরুণ জনসংখ্যা।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা হবে মধ্যবয়সী কর্মক্ষম। যদি তাই হয় তাহলে আমাদের দেশে সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়-স্কুল-কলেজ তৈরি করতে হবে কর্মক্ষম জাতি তৈরির জন্য।
তিনি আরো বলেন, জাপান ২০৪০ প্রায় ২৫০ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হবে। ইতোমধ্যে ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে। কোরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গলোর মার্জিন চলছে, তাদের ছাত্র নেই। তারা বিনিয়োগ করছে। আমাদের যে তরুণ জনগোষ্ঠী, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চায়। এ খাতে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি হবে শিক্ষা। এখানে আমাদের তরুণদের কাজে লাগাতে হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “আজ নওগাঁবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি পুরো উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ও মেধার উন্নয়নে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলো।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী তাঁর বক্তব্যে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নওগাঁসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঘরের কাছে উচ্চশিক্ষার এমন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় মেধা বিকাশের যেমন সুগম হলো, তেমনি উত্তরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হলো।