মোঃ আসাদুজ্জামান বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঝিনাইদহ পৌর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আহ্বায়ক মোঃ জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১২ জুলাই) আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি পরলোকে পাড়ি জমান।
মরহুম জাহাঙ্গীর বিশ্বাস-এঁর ছোট ভাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ-এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদ-এর নবগঠিত কমিটি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “মরহুম জাহাঙ্গীর বিশ্বাস আমার সেজো ভাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে, উন্নত চিকিৎসার জন্য আমি তাকে ঢাকায় নিয়ে আসি। পরবর্তীতে, ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা’র করলে, তার শরীরে মরণব্যাধি ক্যানসারের জীবাণু ধরা পড়ে। এমতাবস্থায়, অভিজ্ঞ ডাক্তারবৃন্দের পরামর্শ মোতাবেক আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। এক পর্যায়ে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার শরীরে একটি অস্ত্রপচারও সম্পন্ন হয়। কিন্তু, আমার ভাই আর সেরে ওঠেননি। অপারেশনের পরপরই তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হলেও, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার শরীরের সমস্ত অর্গান স্বাভাবিক রেসপন্স বন্ধ করে দেয়। সেসময়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মানিত ডাক্তারবৃন্দ আমার ভাইকে সুস্থ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও, সকল প্রচেষ্টার অবসান ঘটিয়ে, আমার কলিজার টুকরা ভাই মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।”
সেসময় তিনি আরও বলেন, “আমরা পুরো পরিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র আদর্শিক রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। আমার বাবা মৃত গোলাম কওসার বিশ্বাস হরিণাকুণ্ডু উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। পিতার আদর্শ বুকে নিয়ে আমি ও আমার ভাইয়েরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এঁর আদর্শিক রাজনীতি করে যাচ্ছি। আমার ভাই জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ঝিনাইদহ পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি বিগত সরকারের আমলে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত সরকারের আমলে তিনি বহুবার হামলা-মামলা’র শিকার হয়েছেন। আমার ভাই একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ছিলেন। এক কথায় সাদা মনের তীব্র প্রতিবাদী মানুষ। ছাত্র রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে তিনি ৮নং চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপি-কে পুনর্গঠনের দায়িত্ব পালন করছিলেন।”
সেসময়, অশ্রু সিক্ত নয়নে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “আপনারা আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন। আমার জানা মতে, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে অনেক দুঃখ-যাতনা সয়ে গেছেন। আমার ভাই দল পাগল মানুষ ছিলেন। তিনি ভুল করেও কারও মনে ন্যূনতম কষ্ট দিয়ে থাকলে, আপনারা নিজগুণে ক্ষমা করে দিবেন।”
এলাকাবাসী জানান, সাবেক এই ছাত্রদল নেতা অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। সমাজের সর্বসাধারণের সাথে ছিল তার আত্মার সম্পর্ক। সেসময় কান্না বিজড়িত কণ্ঠে তারা মরহুম মোঃ জাহাঙ্গীর বিশ্বাস-এঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে মরহুম মোঃ জাহাঙ্গীর বিশ্বাস-এর মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শড়াবাড়িয়া গ্রামে পৌঁছালে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সেসময়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে শেষ বিদায় দিতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীবৃন্দ।
সোমবার (১৩ জুলাই) বাদ যোহর সাবেক ছাত্রদল নেতা মরহুম মোঃ জাহাঙ্গীর বিশ্বাস-এঁর জানাযা ও দাফন তার নিজ গ্রামে সম্পন্ন হয়।
ধরণীর ক্ষণিক সফরে সাবেক এই ছাত্রদল নেতা তার একমাত্র উত্তরসূরি হিসেবে, ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
https://www.kaabait.com