• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৪
শিরোনামঃ
পোরশায় অপরাধ ও মাদক প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা, পুলিশ বক্সের উদ্বোধন পোরশায় পুকুরে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু বালুখালী সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযান, ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার টেকনাফের মাদক কারবারি জামালের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ “গোদাগাড়ীতে মাদক সিন্ডিকেটের আলোচনায় চেয়ারম্যান সোহেল রানা” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: ভূমি মন্ত্রীর মাধ্যমে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে ২৫ কেজি নিমের বীজ দিলেন ‘তাল বেলাল’ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নীলফামারীতে জেলা বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন মহামান্য চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বীক্রমকে পবিপ্রবির মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান এর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। পোরশার নোচনাহারে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে বারি-৪ আম, মণ ৫ -৬ হাজার জনদুর্ভোগ কমাতে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু সংস্কার পবিপ্রবিতে মাদক বিরোধী সচেতনতা তৈরিতে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

দূর্গাপুরে থামছেনা সার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, বিপাকে কৃষকরা

Reporter Name / ৪৪৮ Time View
বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

দূর্গাপুরে থামছেনা সার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, বিপাকে কৃষকরা

তন্ময় দেবনাথ রাজশাহীঃ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা জুড়ে চলছে সার ডিলারদের দৌরাত্ম এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা। কতিপয় কৃষি কর্মকর্তার যোগ সাজশে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অধিক মূল্যে সার বিক্রি, কৃষকদের সার না দিয়ে অন্য উপজেলায় সার পাচারের মতো অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে সারের ডিলাররা। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রান্তিক চাষীরা। বিভিন্ন খোলা বাজার থেকে বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের । মাঝে মাঝে পাচারের সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেও অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। আর এতে করে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে উপজেলার বেশকিছু সার ডিলার। দূর্গাপুর উপজেলার দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের সাবিনা খান তার পরিবারের প্রতিটি সদস্যর নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিসিআইসি ডিলার নিয়োগ নিয়ে সার বানিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তার অনুকূলে নিয়মিত সার বরাদ্দ দিচ্ছে কৃষি অফিস।

ওই ডিলারের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের শেষ নেই। বর্তমানে তার গোডাউন থেকে ইউরিয়া ছাড়া কোন সার পাচ্ছেন না কৃষকরা।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলাররা বলছেন, সারের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় কৃষকদের সার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।সার আসলে পরে দেওয়া হবে।

একটি নির্ভরযগ্যে সুত্র জানায়,বর্তমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পূর্বপরিচিত বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাবিনা খান। ২০১০ সালে লাইসেন্স বাতিল করা হয় বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের। এরপর রিট করা হয় এবং মামলায়ও চলমান রয়েছে কিন্তু অলৌকিক শক্তির বলে এখনো কৃষি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় নিয়মিত বরাদ্দ পাচ্ছে বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ। চাহিদা অনুযায়ী সার না দেওয়া এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়াসহ বাহিরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করেন বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।
আরো অভিযোগ রয়েছে, সাবিনা খানের আপন চাচা এসএস এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী কালাম উদ্দিন চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি অবৈধভাবে ৮৮ মেট্রিকটন সার পাচার কালে যশোরের অভয়নগর থানা পুলিশ আটক করে। এ ঘটনায় কালাম উদ্দিন সহ মোট ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। আর এ কারনে তার সার বরাদ্দ স্থগিত রাখে কৃষি অফিস।
পরবর্তীতে ১ মাস বরাদ্দ বন্ধ থাকার পর আবারও উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় তাকে সার বরাদ্দ দেওয়া শুরু করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০০৯ উপক্ষো করে অনিয়মের মাধ্যমে সাবিনা খাতুন এসব লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছেন।
সাবিনা খাতুন উপজেলার দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ এর সত্বাধীকারী।অভিযোগ রয়েছে সে উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও ভূয়া কাগজপত্র দাখিল করে বাগিয়েছেন বিসিআইসি ডিলারশীপ।
এদিকে বাঘা উপজেলার মনিগ্রামের ডিলার সাবিনা খানের মামা রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রেজাউল এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লাইসেন্স সমর্পণ করেছেন।

এদিকে গত ১৮ নভেম্বর ২০ বস্তা ডিএপি সার বাঘমারা উপজেলায় পাচারের সময় মাড়িয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নাজিম উদ্দীনের ম্যানেজারকে আটক করে স্থানীয় কৃষকরা। এ ঘটনার পরেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা কৃষি অফিস।

এছাড়া গত ১১ ডিসেম্বর উপজেলার কাচুপাড়া এলাকায় লাইসেন্স বিহীন অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে মেসার্স আব্দুল্লাহ তাহাসিন ট্রেডার্স এর ১৩ বস্তা সার জব্দ করা হলেও তার বিরুদ্ধেও কার্যকরী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন এতসব অপকর্মের পরেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন বাড়ছে সার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম। তাদের দাবি এখনি এদের লাগাম টেনে না ধরলে উপজেলা জুড়ে তৈরি হবে সার সংকট বিপর্যস্ত হবে কৃষিখাত।

তবে এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিতা সরকার বলেন, রাজশাহীতে সারের কোন সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুদ রয়েছে। তবে কোন ডিলার যদি সার সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com