মো. আনোয়ার হোসেন:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দনিয়া কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে তার ছেলে ইমরান আহমেদকে বসানোর ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দিয়ে দনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন ইমরান আহমেদ। স্থানীয়দের দাবি, ইমরান আহমেদ উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাশ না করলেও একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সভাপতি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মাস্টার্স পাশের ভুয়া সনদ ব্যবহার করেছেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৯০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ডামি সভাপতি করে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার নেপথ্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বর্তমান সভাপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করে নিজ পুত্রকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন তিনি।
সাধারণ শিক্ষকদের অভিযোগ, গত দেড় বছরে সালাহউদ্দিন ও তার পুত্র দনিয়া কলেজের ম্যানেজিং কমিটিতে থেকে কলেজ ফান্ড থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। বর্তমানে সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজে কলেজের আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে থাকলেও নেপথ্যে থেকে পুরো কলেজ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-৪ আসনের অন্তর্গত শ্যামপুর শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন সেক্টরে সালাহউদ্দিন ও তার দুই পুত্রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
এই পরিবারটির ত্রাসের রাজত্ব এবং অতিষ্ঠ কর্মকাণ্ডের কারণেই বিগত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হওয়া সত্ত্বেও ধানের শীষের প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পরও তাদের প্রভাব কমেনি, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলের মাধ্যমে তারা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইমরান আহমেদকে দনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী সভাপতি রমিজ উদ্দিন আহমেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ইমরান আহমেদকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই পারিবারিক দখলদারিত্ব বন্ধ করতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এসব বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে ইমরান আহমেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তথ্য প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করেন।