• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪
শিরোনামঃ
অ্যাব এর আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনের উপস্থিতিতে মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সান্তাহারে আশা আইসক্রিম কারখানায় অভিযানে ১০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ ; ফ্যাক্টারী সিলগালা নীলফামারী আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট জেলা শাখার ফুলেল শুভেচ্ছা ধামইরহাটে সংঘাত নয়-শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দুমকিতে মাদকের প্রতিবাদ করায় সাবেক ছাত্রনেতার ওপর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজগংয়ের হামলা পোরশায় কোয়ারেন্টাইনে মারা যাওয়া ছাগলের বদলে নতুন ছাগী পেল ৩২ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার মহাদেবপুর ইউএনওকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ আদালতের বৈধ আদেশ প্রতিপালন না করায় কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না? নাগেশ্বরীর কলেজ মোড়ে ১ কেজি গাঁজাসহ ইজিবাইকচালক গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামে ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা মুকিত পার্থ এবার মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে আটক পোরশায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যু

ত্রিশালে এলজিইডি-অস্তিত্বহীন ঠিকাদারের যোগসাজশে কাগজে-কলমে পিচঢালা পথ, বাস্তবে ধুলোর নরক

Reporter Name / ২১৪ Time View
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মোঃ আনোয়ার হোসেনঃ

কাগজে-কলমে পিচঢালা কালো মসৃণ পথ, আর বাস্তবে এক বিভীষিকাময় ধুলোবালির নরককুণ্ড। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চেলেরঘাট-আমতলী জিসি রোড ভায়া চান্দেরটেকি রাস্তাটির উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান চিত্র এটি। ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প স্থানীয়দের কাছে এখন উন্নয়নের স্মারক নয়, বরং এক ‘বিরাট প্রহসন’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এমআরআরআইডিপি (MRRIDP) প্রকল্পের অধীনে এই ২.৮ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। কেবল পেভমেন্ট ও সারফেসিং কাজের জন্যই বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসেও কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, যা কাজ হয়েছে তাও অত্যন্ত নিম্নমানের। বালুর বদলে সরাসরি মাটি এবং নিম্নমানের ২ ও ৩ নম্বর’ ইটের খোয়া দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার পাঁয়তারা চলছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে চলেছে এই প্রকাশ্য ‘হরিলুট’। নথিতে সহকারী, উপ-সহকারী ও উপজেলা প্রকৌশলীর সিল-স্বাক্ষর থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তদারকির বালাই নেই। উন্নয়নের নামে পকেট ভারী করার এই মহোৎসবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ইঞ্জিনিয়ার সাহেবরা আসে শুধু ঠিকাদারের সাথে চা খাইতে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এখন রাস্তার কাজ করছে। এভাবে রাস্তার কাজ করলে অল্প সময়ে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে।

প্রকল্পের নথিতে সুরক্ষা কাজের জন্য ২২ লক্ষ এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্য ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো নিরাপত্তা চিহ্ন বা মজবুত গাইডওয়ালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিস্ময়কর তথ্য হলো, উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন জনৈক ‘আলম’ নামক এক ব্যক্তির ঠিকাদারির কথা বললেও কাগজ-কলমে সেই নামের কোনো অস্তিত্বই নেই। এই ‘বেনামি’ ঠিকাদারের খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেন এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি অসম্পূর্ণ পড়ে রইল? কেন ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের পরও দুর্ভোগ কমলো না? অবিলম্বে এই দুর্নীতির তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ​রাস্তাটি কি আদৌ আলোর মুখ দেখবে, নাকি দুর্নীতির অতল গহ্বরেই তলিয়ে যাবে? এই উত্তর এখন এলজিইডি’র ঊর্ধ্বতন মহলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা ও ত্রিশাল উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ সম্পন্ন হয়নি। তিনি দাবি করেন কাজের ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে, যদিও স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ কাজ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com