June 4, 2026, 6:28 pm
মোঃ আসাদুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহে জামায়াত নেতা-কর্মীদের হামলায় তরু মুন্সী (৫৬) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াত-বিএনপি’র সংঘর্ষে গুরুতর আহত বিএনপি নেতা তরু মুন্সীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়া হলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তরু মুন্সী মাধবপুর গ্রামের মনছুর আলী মুন্সীর ছেলে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতের মহিলা কর্মীদের তালিম করা নিয়ে এলাকায় বেশকিছুদিন ধরেই নানা গুঞ্জন চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সকালে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের তালিম চলাকালে জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা ও এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির ৬জন ও জামায়াতের ৭জন নেতা-কর্মী আহত হন। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষক দলের নেতা তরু মুন্সীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হলে, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কৃষক দলের নেতা তরু মুন্সী নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন,
‘জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মা-বোনদের ডেকে নিয়ে তালিম করেন। এটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে জামায়ত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের কথা কাটা-কাটি হয়। এক পর্যায়ে, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে সশস্ত্র হামলা চালায়। সেই হামলায় গুরুতর আহত হন স্থানীয় কৃষক দলের নেতা তরু মুন্সী। পরবর্তীতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
তরু মুন্সী নিহতের ঘটনায় ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে তিনি আরও বলেন,
‘এটি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমরা জেলা বিএনপি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। আমি জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে প্রশাসনের কাছে বলতে চাই, ‘আপনারা অতি দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুন। তা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। আমরা শান্তি চাই।’
সংঘর্ষের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহজাহান আলী বলেন,
‘জামায়াতের ওহিদুল, তাবিবুর, আব্দুল হামিদ নিলু, মনিরুল, নাসির ও প্লাবন লাঠিসোঁটা নিয়ে আগে থেকে ওঁৎ পেতে ছিল। তারা সংঘর্ষের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে কৃষক দলের নেতা তরু মুন্সী গুরুতর আহত হন।’
সংঘর্ষের বিষয়ে গান্না ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবুল কালাম বলেন,
‘জামায়াতের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়। তারা আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে গুরুতর জখম করেছে। তরু মুন্সীকে তারা নৃশংসভাবে পিটিয়ে জখম করে। এতবড় ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরেও, এখনো তারা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীরা ইফতার মাহফিল আয়োজন করেছিল। এতে বিএনপির লোকজন বাঁধা প্রদান করে। সেই সংবাদ পেয়ে জামায়াতের সমর্থকরা সেখানে গেলে বিএনপির সমর্থকরা ৫/৬ জন কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে।
তিনি আরও জানান, জেলার প্রতিটি এলাকায় জামায়াতের প্রত্যেকটি প্রোগ্রামে হামলা ও বাঁধা দিচ্ছে বিএনপির লোকজন। বিগত নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ বসে থাকবে না।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বেতায় পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, শুক্রবার মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা তালিম করার জন্য জড়ো হয়। মহিলা কর্মীদের জড়ো হওয়া দেখে প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন কারণ জানতে চান। এটি নিয়ে মতবিরোধের এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে বিএনপি ও জামায়াতের বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক আহত হন।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, জামায়াত-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উত্তেজনা প্রশমন ও সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।