উত্তর ধরলা,প্রতিনিধিঃ পবিত্র ঈদের আনন্দে সারা দেশে যখন পবিত্র ঈদের আনন্দের জোয়ার, ঠিক তখনই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার একটি পরিবারে বিরাজ করছে উৎসবহীন, এক নিদারুণ বিষাদময় পরিবেশ। প্রথম স্বামী ও আট বছরের এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কন্যাসন্তানকে ফেলে রেখে এক চীনা নাগরিকের হাত ধরে গৃহবধূর চলে যাওয়ার ঘটনায় স্তব্ধ ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্বামী আব্দুল গহুর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এক পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ওই গৃহবধূ তার সাজানো সংসার ত্যাগ করে ওই চীনা নাগরিককে বিয়ে করেন। ঘটনার পর থেকেই পুরো পরিবারটিতে এক গভীর হতাশা আর নীরবতা নেমে এসেছে।
সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দৃশ্য ছিল ঈদের দিন। মায়ের অনুপস্থিতিতে আট বছরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশু গোলাপী খাতুনের অবুঝ মন কোনোভাবেই শান্ত হচ্ছিল না। সে বারবার ব্যাকুল হয়ে মায়ের খোঁজ করলেও পরিবারের কেউ তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। মায়ের এমন আকস্মিক ও দায়িত্বহীন চলে যাওয়া ছোট্ট এই শিশুটির মনে এক গভীর মানসিক ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।
ক্ষোভ ও বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে গৃহবধূর স্বামী আব্দুল গহুর বলেন, "ঈদের মতো আনন্দের দিনেও আমাদের ঘরে কোনো উৎসবের আলো নেই। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে আমি আর আমার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়েটা মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি।"
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের মতে, অন্য সবার জন্য ঈদ আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও, এই পরিবারের জন্য এবারের ঈদ বয়ে এনেছে শুধুই সীমাহীন শূন্যতা আর দীর্ঘশ্বাস। অসহায় বাবা ও মেয়ের এই বাকরুদ্ধ দশা দেখে প্রতিবেশীদের মাঝেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।