মোঃ আনোয়ার হোসেনঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু বর্তমানে এই হাসপাতালটি তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ধুঁকছে। জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটিতে চিকিৎসকসহ মোট ৭৩টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স, গাইনি ও প্রসূতি, কার্ডিওলজি, শিশু, নাক-কান-গলা এবং চক্ষু) পদের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসপাতালে নেই। ফলে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠানো ছাড়া কোনো উপায় থাকছে না। ডেন্টাল সার্জন, সহকারী সার্জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব, রেডিওগ্রাফি ও ফিজিওথেরাপি) এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর অসংখ্য পদ শূন্য পড়ে আছে। জনবল সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ও ডরমেটরি ভবন নির্মাণ, নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্ল্যান্ট নির্মাণ, হাসপাতাল ক্যাম্পাসের সাথে আবাসিক এলাকার সংযোগ সড়ক সংস্কার, কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহ প্ল্যান্ট ও পরিশ্রুত পানির ব্যবস্থা করা, হাসপাতালের ড্রেনেজ সিস্টেমের আধুনিকায়ন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক ইপিআই সেন্টার নির্মাণে জরুরি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করতে দৃশ্যমান কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবল সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসার জন্য বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দ্রুত এসব শূন্য পদ পূরণ এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করা না হলে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিভাকর ভাট জানান, জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে অবগত করা হয়েছে।