আনোয়ার হোসেন, ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৭ নং বাক্তা ইউনিয়নে চলছে মাটি খেকোদের তান্ডব। ক্ষমতার দাপট আর ‘প্রশাসন ম্যানেজ’ করার দোহাই দিয়ে নিশ্চিন্তপুর এলাকার গোরস্তান, নদীর পাড় ও কৃষকের ফসলি জমি কেটে সাবাড় করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ বাঙ্গালী। স্থানীয়দের আহাজারি আর বাধা উপেক্ষা করেই দিনরাত চলছে এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ, ফলে বর্ষায় নদী ভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পুরো এলাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ বাঙ্গালী নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এস্কেভেটর (ভেকু) বসিয়ে অবাধে মাটি কাটছেন। বাদ যায়নি স্থানীয় গোরস্তানটিও। মৃত মানুষের শেষ ঠিকানায় থাবা বসানোয় ক্ষোভে ফুঁসছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোরস্তানের মাটি কেটে নেওয়ায় এটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বাধা দিতে গেলে জুটছে হুমকি আর ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’র ভয়ভীতি।
শুধু গোরস্থান নয়, কৃষকের বুক চিরে ফসলি জমির মাটিও ট্রাক্টরে করে চলে যাচ্ছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে। গভীর গর্ত করে মাটি তোলায় পাশের আবাদি জমিগুলো ধসে পড়ছে, যার ফলে চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে বিস্তর এলাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী আক্ষেপ করে বলেন, "নদীর পাড় কেটে নেওয়ায় বর্ষায় আমাদের ঘরবাড়ি থাকবে না। প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না, উনি নাকি সবাইকে ম্যানেজ করেই মাটি কাটছেন।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য সুরুজ বাঙ্গালী দম্ভের সাথেই জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) অবগত করেই মাটি কাটছেন। তবে গোরস্তানের মাটি কাটা বর্তমানে বন্ধ রেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি। ক্ষমতার পালাবদলের হাওয়ায় অনেক কিছু বদলালেও সুরুজ বাঙ্গালীর মতো মাটি খেকোদের দাপট না কমায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, আইন কি তবে প্রভাবশালীদের পকেটে?
এ বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুর ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।