June 4, 2026, 8:11 am
মো. আনোয়ার হোসেন: গাজীপুরে ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চুর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনার ৪৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। চিহ্নিত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও জয়দেবপুর থানা পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা ও রহস্যজনক নীরবতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল। ব্যর্থতার দায়ে মামলাটি অবিলম্বে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের জোরালো দাবি উঠেছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চুর নিজস্ব জমিতে নির্মাণ কাজ চলাকালীন চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোহাম্মদ গনি মিয়া ও তার বাহিনী ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে সাংবাদিক বাচ্চুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। রক্তক্ষয়ী এই ঘটনার পর জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ১৮(০৪)২০২৬)। মামলার এজাহারভুক্ত আসামীদের মধ্যে রয়েছে, মোহাম্মদ গনি মিয়া, মো. মোফাজ্জল হোসেন ও মো. মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার পর দীর্ঘ দেড় মাস কেটে গেলেও পুলিশ প্রশাসন কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অথচ চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীরা পুলিশের নাকের ডগায় বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলার ১ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-১ এর সহযোগিতা চেয়ে জয়দেবপুর থানা থেকে চিঠি দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই। পুলিশের এমন ভূমিকাকে চরম ব্যর্থতা অথবা বৈষয়িকভাবে সন্তুষ্ট হয়ে দায়িত্ব অবহেলা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
সাংবাদিক সমাজের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার পরও প্রশাসনের নীরবতার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা মনে করছেন, থানা পুলিশের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার কারণে মামলাটি অবিলম্বে সিআইডিতে হস্তান্তর করা প্রয়োজন, অন্যথায় সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের আইনের আওতায় আনা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরসহ আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয় কিনা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের কাছে ন্যায় বিচারের আশায় মামলা করেছি। অথচ ঘটনার ৪৫ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো সন্ত্রাসীরা পুলিশের নাকের ডগায় এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং আমার ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচারের জন্য এই মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা অত্যন্ত জরুরি।