এস কে জাফর আলম টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধিঃ
দেশের বিভিন্ন অপরাধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও অনিয়মের ঘটনায় প্রায়ই ছোটখাটো অভিযুক্তদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও, অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কথিত বড় গডফাদার বা মূল হোতাদের নাম অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশ পায় না—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, সমাজে সংঘটিত বড় ধরনের অপরাধ বা অনিয়মের পেছনে সাধারণত একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঠপর্যায়ের কর্মী বা ছোট সহযোগীরা ধরা পড়লেও মূল পরিকল্পনাকারী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হলে শুধু নিচের স্তরের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; বরং পুরো নেটওয়ার্ক এবং এর পেছনের মূল ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করতে হবে। অন্যথায় অপরাধ দমন কার্যক্রমের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।
এদিকে গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরা। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ প্রকাশ করা নৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গণমাধ্যমকে যাচাই-বাছাই করে তথ্য প্রকাশ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত চলমান থাকায় বা পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে কিছু নাম প্রকাশ করা সম্ভব হয় না।
তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, অপরাধী যে-ই হোক না কেন—তার সামাজিক অবস্থান, রাজনৈতিক পরিচয় বা অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা না করে সত্য উদঘাটন করা হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কেউ যদি প্রভাবশালীও হন, তবে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
গণমাধ্যমে বড় গডফাদারদের নাম প্রকাশ ও অপরাধের মূল হোতাদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার যথাযথ উত্তর খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন