নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁঃ নিলামে বিক্রিতে অনিয়মের কারনে দূর্ণীতি দমন কমিশনের মামলায় আদালতের ক্রোক আদেশ না মেনে একের পর এক দলিল রেজিষ্ট্রি করায় বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের আওতাধীন রাণীনগর পাট গুদামের সম্পত্তি ও সম্পদ হরিলুট করছে জমির ক্রেতারা। বর্তমানে পাট গুদামের ইটের অবকাঠামো ভেঙে প্রকাশ্যে ইট সহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে হাসান আলী নামে স্থানীয় এক জাপা নেতা।সরকারি সম্পদ প্রকাশ্যে এভাবে লুটপাট ও আত্মসাতে স্তম্ভিত এলাকাবাসি। সরকারি এই পাট গুদামের সম্পত্তি রক্ষায় আদমদিঘী উপজেলা সাব রেজিষ্টারও হরিলুট কারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি এলাকার সচেতন নাগরিকদের।
আদমদিঘী থানায় দায়ের করা দুদুকের মামলা সুত্রে জানা যায়,বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার দড়িয়াপুর মৌজার সুরজমল আগরওয়ালার ২.৩৮ একর সম্পত্তি(আর এস খতিয়ান-৩ হাল দাগ-১৬৬,২৩৪,২৩৫ সম্পত্তি ও অবকাঠামো যা বর্তমানে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের আওতাধীন রাণীনগর পাট ক্রয় কেন্দ্র। গত ২০১২ সালের ২৯ মার্চ তারিখে মাত্র ২৩লাখ ৯৪ হাজার৭”শ ৭৩টাকা ১২ পয়সায় এই সম্পত্তি বিক্রি করা হয়।আওয়ামীলীগ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও বগুড়া শহরের কালিতলার হারুনুর রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ পরস্পর যোগসাজসে এবং ব্যক্তি স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দরপত্র ছাড়াই বে আইনিভাবে উক্ত সরকারি সম্পত্তি কম দামে জাহানারা রশিদ এর কাছে বিক্রি করায় সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১টাকা ১১ পয়সার ক্ষতি সাধিত হয়।
এ বিষয়ে দুদুক অনুসন্ধান শেষে আওয়ামীলীগ সরকারের পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও বগুড়া শহরের কালিতলার হারুনুর রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ আসামী করে দুদুক বগুড়া অফিসের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলামগত ১৯১৭ সালের ১৭ অক্টোবর আদমদিঘী থানায় মামলা করেন।
মামলার চাজশিট শেষে বগুড়া দুদুক আদালতে(স্পেশাল জজ আদালত) বিচারকালে গত ২০১৯সালের ১৪ অক্টোবর তারিখে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে জাহানারা রশিদের নামে উল্লেখিত সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ জারি করেন। এই মামলায় কারাবাস করেন সাবেক পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।
পরে গত ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ আদমদিঘী সাব রেজিষ্টি অফিসকে লিখিতভাবে অবহিত করে দুদুক। কিন্তু আদালতের ক্রোকের এই আদেশ অমান্য করে আগের সাব রেজিষ্টার এস এম কামরুল ইসলাম ৩টি এবং বর্তমান সাব-রেজিষ্টার মুদাচ্ছির হাসান ৮ টি দলিল রেজিষ্ট্রি করেছেন।
ক্রোকআদেশ থাকা সত্তেও কিভাবে জমি রেজিষ্টি করলেন এমন প্রশ্নে বর্তমান সাব-রেজিষ্টার মুদাচ্ছির হাসান জানান,মামলা চলা অবস্থায় দলিল রেজিষ্ট্রি বিষয়ে আইন ও বিচার বিচার বিভাগের মতামত সম্পকিত নিবন্ধন অধিদপ্তর গত ২০২৪ সালের ২৮ মে জারিকৃত পত্র এ বছরের ৩০ জুলাই তারিখে বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে মামলা চলমান অবস্থায় সম্পত্তি রেজিষ্ট্রিতে কোনবাঁধা না থাকায় ওই সম্পত্তির ৮টি দলিল রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে। বদলী হয়ে যাওয়া আগের সাব রেজিষ্টার এস এম কামরুল ইসলাম কমপক্ষে ৩টি রেজিষ্ট্রি করেছেন।
বর্তমানে দলিল গ্রহিতাদের একজন স্থানীয় জাপানেতা হাসান আলী আদালতের ক্রোকের এই আদেশ অমান্য করে ওই সম্পত্তিতে থাকা ইটের ৩টি ঘরভেঙে ইট ও মালামাল নিয়ে যাচ্ছেন। দলিল গ্রহিতাদের মধ্যে এন এস আইয়ের একজন সাবেক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দলের নেতাকমীরা আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান উজ্জ্বল বলেন,আমাদের বাপ দাদারা এই পাট ক্রয় কেন্দ্রে পাট সরবরাহ করেছেণ্ এর সাথে আমাদের নিবিড় সর্ম্পক। বর্তমানে কয়েক কৌটি টাকার এই সম্পত্তি আওয়ামী লীগের পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মাত্র ২৩ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।কমমুল্যে বিক্রির কারনে পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও সম্পত্তির ক্রেতা জাহানারা রশিদকে আসামী করে দুদক মামলা করলে আদালত ও সম্পত্তি ক্রোক আদেশ জারি করেন। কিন্ত ক্রোকাআদেশ অমান্য করে ওই সম্পত্তি খন্ড খন্ড আকারে দলিল রেজিষ্ট্রি করে ক্রেতারা দখল ও লুটপাট ও আত্মসাত করছে।এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
নওগাঁর ছাত্রনেতা ফজলে রাব্বী জানান, রাণীনগর পাট ক্রয় কেন্দ্রের এই সম্পত্তি সরকারের সম্পত্তি । যা বর্তমানে হরিলুট করা হচ্ছে। আদালতের ক্রোকাআদেশ অমান্য করে দলিল রেজিষ্ট্রি দখল, আত্মসাত ও লুটপাটে জড়িত সাবরেজিষ্টার সহ অন্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি এই ছাত্রনেতার।
তবে এসব দলিলের কোন বৈধতা থাকবেনা ।এই সম্পত্তি এখন দুদুকের অধীনে আছে এবং আদালতের এখতিয়ারে আছে। ।জানা সত্ত্বেও সাব-রেজিষ্ট্রার সম্পত্তি হস্তান্তর করে থাকলে তার বিরুদ্ধে এবং সম্পতি দখল ,আত্মসাত ও ক্ষতিসাধনে যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আদালত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি ও বগুড়া দুদুক আদালতের পিপি এড. আনোয়ার হোসেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুদুকের এই মামলা নিষ্পত্তি হবার আগেই ভূমি দস্যুরা সরকারি এই সম্পত্তি বেহাত করতে পারে বলে আশংকা এলাকাবাসির।