• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩০
শিরোনামঃ
বাকেরগঞ্জে মাদক মামলার আসামি পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু রঙ্গীখালীতে সরকারি প্রকল্পের কাজ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি নির্ধারিত সড়ক কাঁচা রেখেই অন্য সড়কে কাজের অভিযোগ সান্তাহারে মাদক সেবন করে মাতলামি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হুমকি ধামকি দেওয়ার এক মাদক সেবীর ২ মাসের কারাদণ্ড সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে ‘মোমবাতি’ মার্কায় ভোট চাইলেন ওমর ফারুক সিকদার বাকেরগঞ্জ প্রান্তিক পেশাজীবীদের পেশাভিত্তিক সফটস্কিলস প্রশিক্ষণ ময়লার স্তূপে দুই নবজাতকের লাশ, বরিশালে চাঞ্চল্য মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় হোয়াইক্যংয়ে যুবক আটক, উদ্ধার ১০ হাজার পিস ইয়াবা বাকেরগঞ্জে মাদক অভিযানে ও অবৈধ মাটি কাটায় ৯ আসামি গ্রেপ্তার নাজিরপুরে ফ্রিজের বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে নার্সিং শিক্ষার্থীর মৃত্যু বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

বরিশালের বাবুগঞ্জ অসহায় নূরে আলমের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও ফারুক আহমেদ

Reporter Name / ২৪২ Time View
শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

মাইনুল ইসলাম বরিশাল প্রািতনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের নূরে আলম মৃধা। জীবনের কঠিন সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পরাজয়ের গ্লানি বয়ে বেড়ানো এক মানুষ। শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী, প্রতিবন্ধী পুত্রকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভরা দিন কাটিয়েছেন তিনি। দিনমজুরির কষ্টে চলতে গিয়ে শরীর ভেঙে পড়ে, কর্মক্ষমতা হারান, অনাহার-অর্ধাহারই হয়ে ওঠে নিত্যদিনের সঙ্গী।

শেষ চেষ্টা হিসেবে একসময় পরিবার নিয়ে চলে যান রাজধানী ঢাকায়। ভেবেছিলেন, হয়তো সেখানে মিলবে নতুন কোনো পথ। কিন্তু শহরের কঠিন বাস্তবতায় শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে, একপর্যায়ে তিনি সম্পূর্ণরূপে হাঁটাচলা করতে অক্ষম হয়ে পড়েন। পরে নিরুপায় হয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। কিন্তু ইসলামপুরেও ছিল না তাঁদের মাথাগোঁজার মতো স্থায়ী ঘর। ভাইয়ের ছোট্ট ঘরে আশ্রয় নিয়ে কোনোমতে টিকে ছিলেন নূরে আলমের পরিবার।

এমন দুঃসহ বাস্তবতার মাঝেই প্রায় তিন মাস আগে তাঁর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে নূরে আলমের করুণ জীবনের কথা জানতে পারেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফারুক আহমেদ। খবর পাওয়ার পরই শুকনো খাদ্য নিয়ে ছুটে যান নূরে আলমের বাড়িতে। নিজের চোখে সেই বাস্তব চিত্র দেখে মন অস্থির হয়ে ওঠে তাঁর।

চলাচলের অক্ষম নূরে আলম তখন আকুতি জানিয়েছিলেন ‘একটা নিজের ঘর পেলে বাকি জীবনটা অন্তত শান্তিতে কাটাতে চাই।’ এই আবেদন যেন গভীরভাবে স্পর্শ করে ইউএনওকে। তিনি তখনই প্রতিশ্রুতি দেন নূরে আলমের পাশে দাঁড়ানোর।

পরিস্থিতি যাচাইয়ের পর ইউএনও ফারুক আহমেদ তাঁর জন্য পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের মাধ্যমে ‘নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও বস্তিবাসীদের জন্য গৃহ নির্মাণ প্রকল্প’ থেকে নূরে আলমের ঘর অনুমোদন করান।

প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় দুই রুম, বারান্দা ও ওয়াশরুমসহ একটি পাকা ঘর। শুধু ঘর নয়, নূরে আলমের চলাফেরার সুবিধার্থে ইউএনও একটি আধুনিক হুইলচেয়ার ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে ইসলামপুর গ্রামে নতুন ঘরের চাবি নূরে আলমের হাতে তুলে দেন ইউএনও মো. ফারুক আহমেদ। সেই মুহূর্তে বহুদিনের অনিশ্চয়তার ছাপ যেন মিলিয়ে যায় তাঁর চোখে। নতুন ঘর ও হুইলচেয়ার পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন স্ত্রী-সন্তানও।

চাবি হস্তান্তরের সময় ইউএনও বলেন, সমাজের প্রান্তে থাকা মানুষের নিরাপদ আশ্রয় ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। কেউ যেন অভাবে বা অবহেলায় দিন না কাটায় এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, নূরে আলমের চোখেমুখে যে দীর্ঘদিনের দুঃখের ছাপ ছিল, সেটাকে কিছুটা হলেও দূর করতে পেরেছি। সমাজের অন্য অসহায় মানুষের জন্যও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান হিমু, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নূরে আলমের পরিবারের সদস্যরা।

নতুন পাকা ঘর ও হুইলচেয়ার পেয়ে নূরে আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইউএনও ও সমাজসেবা কর্মকর্তার জন্য দোয়া করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category
https://www.kaabait.com